আপনার বাসার ওয়ারড্রপ ও আলমিরাকে টেকসই করে তোলার সহজ উপায়
ফ্যাশন বর্জ্য আমাদের পৃথিবীর জন্য বর্তমানে একটি বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েসে যা কিনা পলিথিন বর্জ্যের চেয়েও কম না,একটি হিসাবে দেখা যাই যে পৃথিবীতে প্রতি বছর ৯২ মিলিয়ন টন্স পোশাক বর্জ ফেলে দেওয়া হয়, যার বেশিরভাগই ল্যান্ডফিলে শেষ হয়। অনেক কাপড় পলিয়েস্টারের মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়, যা সহজে পচনশীল নয়। পোড়ালে তারা বাতাসে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ ছেড়ে দেয়। জিপার এবং বোতামের মতো আইটেমগুলি অন্যান্য বর্জ্যের সাথে মিশে গ্যাস তৈরি করতে পারে।একটি হিসাবে যায় টেক্সটাইল ওয়েস্ট
বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণের 10% এর জন্য দায়ী।

যদিও প্রথিবীর উন্নয জাতি ও উন্নয়নশীল জাতির দিক দিয়ে বিবেচনা করলে আমাদের দেশ ফ্যাশন বর্জ্যের জন্য পরিবেশ রক্ষায় প্রাকৃতিকভাবেই অনেক এগিয়ে আছে
। এর কারণ হচ্ছে আমরা উন্নত দেশগুলির চেয়ে অনেক কম কাপড় বাবহার করে থাকি এবং যাকিছু ব্যবহার করে থাকি সে কাপড়গুলি পরিবেশ দূষণ অপেক্ষাকৃত কম হয়ে থাকে কারণ আমাদের দেশের মানুষ স্বভাবগত ভাবেই কটন কাপড় বেশি পছন্দ করে থাকে কটন কাপড় সহজেই পচনশীল বিধায় এগুলি পরিবেশ দূষণে কম ভূমিকা রাখে ।তবুও বস্ত্র মানুষের জীৱন যাপনের জন্য যেহেতু একটি মৌলিক বিষয় সেহেতু আমাদের দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য টেকসই বস্ত্র ব্যাবস্থাপনার উপর সঠিক শিক্ষা থাকা উচিত।
ফ্যাশন বর্জ্য হল, পরিত্যাগ করা পোশাক, টেক্সটাইল এবং টেক্সটাইল রিলেটেড আনুষাঙ্গিক যা ফ্যাশন পণ্যগুলির উৎপাদন এবং ব্যবহারের ফলে যে বর্জ্য নিঃসারণ হয় যেমন কাপড় কাটিং ওয়েস্ট, রং এর ওয়েস্ট, পানি,কেমিক্যাল ওয়েস্ট,প্যাকেজিং বর্জ্য ইত্যাদ।
যদিও পুনর্ব্যবহারযোগ্য কর্মসূচী প্রবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাশন শিল্প পরিবর্তন হতে শুরু করেছে, তবে এই পরিবর্তনকে টেকসই করতে হলে এবং আমাদের পরিবেশকে সুরক্ষা দিতে ব্যাক্তি হিসাবে আমরাও অনেক ছুট ছোট পদক্ষেপ নিতে পারি।অর্থাৎ আপনার পোশাকটিকে আরও পরিবেশ বান্ধব করার জন্য এখানে কিছু সহজ এবং সৃজনশীল উপায় রয়েছে।নিম্নে এর কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো যা থেকে আশা করি কিছুটা হলেও শিক্ষা নিতে পারবেন।
আপনার ফ্যাশন চয়েস সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করুন
পোশাকের চয়েস সম্পর্কে সচেতন হউন যখন কোন পোশাক চয়েস করতে যাবেন প্রথমেই দেখুন পোশাকটি কোথেকে আসছে, কাপড়, রং, সেলাইসহ ও অন্য বিষয়ে বিক্রেতাকে প্রশ্ন করুন, মনে রাখবেন কম দামে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল ফ্যাশন মানে এর বিপরীতে পোশাকটি তৈরী করার প্রতিটি ধাপে এর শ্রমিকের মুজুরি সঠিক দেওয়া হয় নাই ।
আপনার পছন্দের ব্র্যান্ড এর ওয়েবসাইট চেক করুন এবং দেখুন যে আপনার পছন্দের পোশাকটি সমন্দে যথাযত ইনফরমেশন দেওয়া আছে কিনা এবং ব্র্যান্ড কোম্পানিটি পোশাকটি তৈরী করার সময় পরিবেশ বিষয়ে কতোটুকু সচেতন ছিল। আপনার পছন্দকৃত পোশাকটির যথাযত ইনফরমেশন না থাকলে ব্র্যান্ডিং কোম্পানিকে জানান ইনফরমেশন গুলি পরবর্তীতে দেওয়ার জন্য ।ব্র্যান্ড কোম্পানিকে সাপোর্ট করুন টেকসই বস্ত্রখাত এর লক্ষ অর্জনে । এতে করে কোম্পানিটি তাদের দায়িত্ত অর্জনে ইন্সপায়ার্ড হবে ।
এমন পোশাক বেছে নিন যা স্থায়ী হয়
কোনও পোশাক কেনার আগে আপনি কতক্ষণ পরতে চাইবেন তা নিয়ে ভাবুন।
নিজেকে জিজ্ঞেস করুনঃ আগামী ছয় মাস পরেও কি আমি এটা পছন্দ বা ব্যাবহার করব?
এমন পোশাক খুজুন যা আপনি সচরাচর কিনেন এবং পছন্দ করেন ।এমন কিছু কেনার কোন মানে নেই যা আপনার বর্তমান পোশাকের সাথে যায় না।
পরিমাণের চেয়ে গুণগত মানকে অগ্রাধিকার দিন। ভালোভাবে তৈরি জামাকাপড় দীর্ঘস্থায়ী হয়, যা আপনার অর্থ সাশ্রয় করে এবং অপচয় হ্রাস করে।
আপনার বর্তমান পোশাকের স্টাইল পরিবর্তন করুন । কখনও কখনও মনে হয় যে আপনার পরার কিছু নেই, কিন্তু আপনার বর্তমানে যত জামাকাপড় ওয়ার্ড্রোপে আছে তা নিয়ে ভাবুন এবং এগুলিকে নতুন রূপে পরিবর্তন করুন , এতে বদলে দিতে পারে নতুন করে ক্রয়ের আকাঙ্খা।
বন্ধুদের স্টাইলিং পরামর্শের জন্য জিজ্ঞাসা করুন অথবা অনুপ্রেরণার জন্য ম্যাগাজিন এবং সোশ্যাল মিডিয়া দেখুন।
আপনার পছন্দের রঙ বা নিদর্শনগুলিতে মনোনিবেশ করুন এবং আপনার কাছে যা আছে তা দিয়ে পোশাকটি নতুন রূপে রূপান্তর করুন।
এই সহজ কৌশল অনুসরণ করে, আপনি আপনার পোশাককে আরও টেকসই করার দিকে প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে নিতে পারেন।
আপনার পোশাকগুলোতে রিপিয়ারিং কাজ করতে শিখুন :
কাপড় নষ্ট হয়ে গেছে বলে ফেলে দেবেন না।
সেলাই খুলে যাওয়া , বোতামগুলির মতো ছোট সমস্যাগুলি সমাধান করতে সহজ সেলাই দক্ষতা শিখুন।
আপনি কোথায় শুরু করবেন তা নিশ্চিত না হলে অনলাইন টিউটোরিয়াল দেখুন।
বড় সমাধানের জন্য, সাহায্যের জন্য স্থানীয় টেইলার্স বা বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করুন।পুরাতনকে নতুন রূপে রূপান্তর সাধারণত নতুন কিছু কেনার চেয়ে সস্তা।
যাদের নতুন পোশাক ক্রয়ের সামর্থ্য কম তাদেরকে সেকেন্ডহ্যান্ড কেনাকাটা করতে উৎসাহিত করুন।
পুরাতন প্রিয় আইটেম কেনা বর্জ্য কমানোর একটি দুর্দান্ত উপায়।
আপনার ওয়ারড্রপ এর ড্রয়ারের দিনের পর দিন অবাবরিত কাপড়গুলি কোনো দাতব্ব প্রতিষ্ঠানে, বা হকারের কাছে বেঁচে দিন বা গারিব মানুষকে দিয়ে দিন।
অনন্য এবং সাশ্রয়ী মূল্যের জিনিসগুলি খুঁজে পেতে দাতব্য দোকানগুলিতে যান৷
আপনি যখন সেকেন্ডহ্যান্ড কিনবেন, বা কাউকে কিনতে সহায়তা করবেন তখন মনে রাখবেন,সেকেন্ডহ্যান্ড পোশাকটি ব্যাবহার এর ফলে পরিবেশের কোনো রিসোর্সেস ব্যবহার হচ্ছে না।
স্থানীয় পোশাক নির্মাতাদের সহায়তা করুন ;
স্থানীয়ভাবে তৈরি পোশাক পরিবেশের জন্য ভালো কারণ এগুলো দীর্ঘ সরবরাহ চেইনের প্রয়োজন হয় না এতে করে উত্পাদন খরচ কম হয়, গুনগত মান নিশ্চিত হয় বলে পণ্যের টিকসই নিশ্চিত থাকে।
স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা স্বভাবত টেকসই উপকরণ এবং নৈতিকতার অনুশীলন করে।
তাদের সহায়তা করা মানে আপনার কমিউনিটিকে সহায়তা করে পরিবেশ বান্ধব উপাদনে উৎসাহিত করা ।
আপনার যা প্রয়োজন তা কিনুন
মননশীল কেনাকাটা আপনার বাস্তবতার সাথে মিল থাকে।
কেনার আগে, নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন আপনার সত্যিই আইটেমটি প্রয়োজন কিনা।
একটি তালিকা তৈরি করে এবং আপনার বাজেটের সাথে লেগে থাকার মাধ্যমে আবেগের কেনাকাটা এড়িয়ে চলুন।
কেন টেকসই ফ্যাশন গুরুত্বপূর্ণ
আবাসন, পরিবহন এবং খাদ্যের পরেই প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে পোশাক শিল্প অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অবদানকারী। ছোট ছোট পরিবর্তন করে, যেমন কাপড় মেরামত করা, সেকেন্ডহ্যান্ড কেনাকাটা করা এবং স্থানীয় ব্যবসায়কে সমর্থন করার মাধ্যমে আপনি বর্জ্য কমাতে এবং একটি বাসযোগ্য পৃথিবী বিনির্মানে সাহায্য করতে পারেন।
প্রায় বিশ কোটি মানুষের দেশে বস্ত্র খাতে দেশের বাজেটের একটি বড় অংশ আমাদের খরচ হয়ে থাকে, আমাদের দেশের মানুষ পোশাক পরিচ্ছদে একটু বেশি খরচ করে থাকে যা অন্যান্য পার্শবর্তী দেশের থেকেও অনেক বেশি আমার মনে হয়। এটা যে কোন মৌসুমেই মানুষের পোশাক ক্রয়ের অবস্থা দেখলেই বুজতে পারবেন। তা ছাড়া আমরা এই খাতে ব্যাক্তিগত ভাবে কত খরচ করে থাকি তা হিসাব করলেও বুঝা যাবে।আপনার বাসায় ওয়ারড্রপগুলির দিকে একটু নজর দিলেও বুজতে পারবেন।আমার্ পর্যবেক্ষণ এর মাধ্যমেও এমনও দেখেছি যে ওয়ারড্রপভর্তি কাপড়গুলি বছরে ১/২ বারও পড়া হয় নায় বা আর পড়া হবেও ন। তাই এইগুলি সারাজীবন ড্রয়ারে না রেখে উক্ত সৃজনশীল উপায়ের মাধ্যমে পুনরায় ব্যবহার করার উপযুক্ত করে তুলুন এবংপরিবেশ রক্ষায় যার যার অবস্থান থেকে সহায়তা করুন.। মনে রাখবেন পোশাক খাতের প্রায় সম্পূর্ণ কাঁচামাল আমাদেরকে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।