আপনার প্রিয় সন্তানের হোমেওয়ার্কে সহায়তার কার্যকরী কৌশল
আপনার সন্তান যখন হোমেওয়ার্কে সহায়তা চাইবে, তখন তাদের পাশে থাকা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু তাদের শেখার গতি বাড়াবে না, বরং তাদের আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনভাবে নিজেকে গড়ে তুলতেও সাহায্য করবে। তবে, কাজটি সহজ নয়। আপনার সন্তানের পারিবারিক আচার আচরণের উপর সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে আপনার সন্তানকে সাহায্য করবেন তা জানতে এখানে চারটি কার্যকর কৌশল দেওয়া হলো।
১. এমন ক্রিটিকাল প্রশ্ন করুন যার দীর্ঘ উত্তর প্রয়োজন
এমন প্রশ্ন করুন যা আপনার সন্তানের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করে এবং চিন্তাভাবনার দক্ষতাকে ত্বরান্বিত করে। যাতে সরাসরি হা বা না দিয়ে উত্তর দিতে না পারে।
উদাহরণস্বরূপ প্রশ্ন:
" হোমেওয়ার্কের বিষয়াবলির উত্তরের জন্য প্রথম পদক্ষেপটি কী হওয়া উচিত? তোমার কি মনে হয় ?
"আমরা এটি সমাধান করতে অন্য কোন পদ্ধতি চেষ্টা করতে পারি?"
"তুমি এ বিষয়ে যা চিন্তা করেছো তা কি ব্যাখ্যা করতে পারো ?
এভাবে প্রশ্ন করলে, তারা সমাধানের উপায় নিয়ে ভাবতে শিখবে। এমনকি যদি তারা ভুল করে, তবুও সেই অভিজ্ঞতা তাদের শেখার একটি বড় অংশ হয়ে উঠবে। এই পদ্ধতি আত্মবিশ্বাস এবং কৌতূহল বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করে।
২. বড় কাজগুলোকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করুন
বড় অ্যাসাইনমেন্ট বা কাজগুলো অনেক সময় ভয়ের মতো মনে হতে পারে। সেগুলোকে ছোট অংশে ভাগ করলে কাজটি সহজ এবং অর্জনযোগ্য মনে হবে।
করণীয় তালিকা তৈরি করুন:
আপনার সন্তানকে অ্যাসাইনমেন্টের প্রতিটি ধাপ লিখে নিতে সাহায্য করুন। প্রতিটি ধাপ কত সময় নিতে পারে তা অনুমান করে সেগুলো একটি বাস্তবসম্মত সময়সূচীতে সাজিয়ে দিন।
প্ল্যান ফর লংগার এসাইনমেন্ট :
যেমন, বড় এসাইনমেন্ট ক্ষেত্রে, উদাহরণসরূপ যে কোনো বিজ্ঞান বিষয়ক প্রজেক্ট এর জন্য নিন্মের ধাপগুলো প্রয়োগ করা যেতে পারে :-
যে কোনো একটি টপিক নির্বাচন করুন
টপিকটি নিয়ে প্রাথমিক গবেষণা করতে দিন ।
গবেষণা করে তার উত্তর চুড়ান্ত করতে দিন ।
প্রজেক্টির ডিজাইন ও এক্সপিরিমেন্ট পরিচালনা করতে দিন
পরিচালিত প্রজেক্টির তথ্য বিশ্লেষণ এবং সামারাইজ করতে দিন ।
প্রতিবেদন প্রস্তুত উপস্থাপন করতে দিন।
এই স্টেপ বাই স্টেপ পদ্ধতিটি আপনার সন্তানকে সু- সংগঠিত থাকতে সাহায্য করে,ফুক্যাসিং ডেভেলপ করে এবং অত্যাবশ্যক সময় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার পরিচয় দেয় যা তাদের একাডেমিক যাত্রা জুড়ে উপকৃত করবে।
৩. তার হোমেওয়ার্ক এর সময় প্রয়োজনমত বিরতি দিন
লক্ষ রাখুন , হোমেওয়ার্কটি যদি তার কাছে একটু কঠিন মনে হয় তখন তার মনে হতাশা ও ক্লান্তি আসতে পারে , তখন একটি ছোট বিরতি অনেক উপকার করতে পারে।তাই তাদের ১০-১৫ মিনিটের একটি ছোট বিরতি নিতে উৎসাহিত করুন।
তখন তাকে এন্টারটেইন করুন, তার পছন্দ মতো হালকা খাবার, খেলাধুলা ও বিশ্রাম দিয়ে ।
বিরতির পর তার মনের সতেজতা ফিরে আসবে এবং ক্লান্তি দূর হবে ফলে নাতুন দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে তার হোমেওয়ার্কের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে মন বসাতে পারবে ।
৪. খুঁজ রাখুন কখন তার সমস্যা সমাধানে সহায়তা প্রয়োজন ।
তাকে বুজাতে চেস্টা করুন, সবসময় সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব না এবং এটি স্বাভাবিক। তবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
তাকে বুজাতে চেস্টা করুন সবকিছুর উপর প্রতিটি মানুষের একটা সীমাবদ্দতা থাকে, যদি কোনো বিষয় তার কঠিন বা অপরিচিত মনে হয়, তার জন্য কারো সহায়তা চাওয়া দুর্বলতা নয় বরং এটি সবার জন্যই প্রয়োজন হতে পারে এবং তাকে বুজান যে ভালো কিছু করতে ও জানতে হলে অবশ্যই তাকে অন্য মাধ্যমে বা ব্যাক্তির সহযোগিতা নিতে হবে ।
সহায়ক উৎস খুঁজুন:
অনলাইন টিউটোরিয়াল, শিক্ষামূলক অ্যাপ বা শিক্ষকের সহায়তা নিন। অনেক স্কুল অতিরিক্ত টিউটরিং বা স্কুল-পরবর্তী প্রোগ্রাম অফার করে থাকে সেগুলি কালেক্ট করুন ।
সহযোগিতার উদাহরণ দিন:
আপনার সন্তানকে প্রাক্টিক্যাললিদেখান ও বুজান "একসঙ্গে কাজ এবং সহযোগিতা করে শেখা" শেখার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
উপসংহার
আপনার সন্তানের হোমওয়ার্কে সহায়তা করা তাদের আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনতা বাড়ানোর একটি চমৎকার সুযোগ।
পরিশেষে, হোমওয়ার্কে সহায়তা করার লক্ষ্য শুধুমাত্র কাজ শেষ করা নয়; বরং এমন অভ্যাস এবং দক্ষতা গড়ে তোলা যা আজীবন তাদের সহায়ক হবে।